এ কে আজাদ : মিয়ানমারের একটি ছোট্ট রাজ্য আরাকান, যার বর্তমান নাম রাখাইন। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম লাগোয়া ওই রাজ্যটি চারটি জেলায় বিভক্ত। প্রধান নগর অকয়ার। রাজ্যটির অধিকাংশ পাহাড়ি এলাকা। রাজ্যটির সমতল এলাকার কিছু কিছু জায়গায় কৃষিক্ষেত হয়ে থাকে। ওই রাখাইন রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য আধিবাসী জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা। এই নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীটি মূলত ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। বর্তমান মিয়ানমারে তাদের জনসংখ্যা প্রায় আট লাখ। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের কোনো দিনও আপন ভাবে নি, আজও ভাবে না। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন কারণে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়, যার ফলে আজ তারা মিয়ানমার ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এই মুহূর্তে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী।খ.দীর্ঘ ৪৯ বছরের সামরিক শাসনের অবসান হতে না হতেই দাঙ্গার সূত্রপাত। ২০১১ সালের মার্চে চার দিনের দাঙ্গায় রাখাইনের মিকতিলা শহরে মোট ৪৩ জন মারা যায়। বাড়ি-ঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে পালায় প্রায় ১৩ হাজার মানুষ। এই ঘটনার পর দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে আরো ১৪টি গ্রামে। দাঙ্গায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের শসস্ত্র আক্রমণ ছিল উল্লেখনীয়। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা মিয়ানমারে সার্বিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। সেখানকার গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ভিক্ষুদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মিকতিলা দাঙ্গায় ভিক্ষুরা যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তাতে তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থান প্রশ্নের মুখোমুখি।
অন্যদিকে ভিক্ষুরা যখন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তখন স্থানীয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উল্টো দাঙ্গাকারীদের মদত জুগিয়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেয়ালে ছিল ‘চাই মুসলমান নিধন’। প্রশাসন এসব দেখেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় নি।
সরকারের তরফ থেকে দাঙ্গা সামাল দেয়ার জন্য কোনো জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ক্রমশ তা প্রবল আকার ধারণ করে। এতে রাখাইন বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমরা সর্বাধিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। রোহিঙ্গা মুসলিমদের অ¯িত্মত্ব তো আজ সংকটের মুখে। এক বছরেরও অধিক সময় থেকে চলা এই দাঙ্গায় এখন পর্যšত্ম ১৯২ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। রাখাইনদের অগ্নিসংযোগ, লুটপাটে গৃহছাড়া হয়েছে দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আর এসব কা-কারখানার জন্য অভিযোগের তীর রাখাইনদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধেও। প্রশাসন রাখাইনদের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করছে বলে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আšত্মর্জাতিক মহলের একটি অংশের দৃঢ় বিশ্বাস।
২০১২ সালের মার্চে মিয়ানমারে রাখাইন বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে জাতিগত কোন্দলকে কেন্দ্র করে যে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছিল তার জন্য দায়ী শুধু রাখাইনরা নয়। প্রথমাবস্থায় দুই পক্ষই দায়ী। দাঙ্গা শুরু হয়েছিল এক বৌদ্ধ হত্যার মধ্য দিয়ে। মিকতিলা শহরে এক রাখাইন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে রোহিঙ্গারা হত্যা করলে বৌদ্ধরা ভড়কে উঠে। শুরু হয় রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ। বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হত্যার জন্য প্রশাসন ৪২ জনকে আটক করে। যদিও এরপরও দাঙ্গা থামেনি। বরং তা নতুন নতুন এলাকায় ছেিড়য়ে পড়ে।
গ.২০১২ সালের ২১ মার্চ মিকতিলা শহরের রা¯ত্মা দিয়ে এক রোহিঙ্গা মুসলিম নারী যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুক ওই নারীটির গলায় ছুরি চেপে ধরে। পাশে দাঁড়িয়েছিল একদল পুলিশ। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে পুলিশ এগোলে ভিক্ষুটি চিৎকার করে বলে, ‘এগোলে মেরে ফেলবো’। ততক্ষণে রামদা, তলোয়ারসহ বিভিন্ন মরণাস্ত্র নিয়ে একদল ভিক্ষু মুসলমান নিধনের জন্য এগিয়ে আসে। পুলিশের বুঝতে অসুবিধা হয় নি তারা দাঙ্গাকারী, কিন্তু এরপরও পুলিশ তা শক্ত হাতে দমন করতে পারে নি।ওই দিন ও পরের দিন মিলে মোট ২৫ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে দাঙ্গাকারীরা। হত্যার পর কয়েকটি মৃতদেহ একটি পাহাড়ের ওপর নিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় তো কয়েকটি দা দিয়ে কুপিয়ে খ--বিখ- করে ফেলে দেয়া হয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক ক্যামেরাম্যান পুড়ে অঙ্গার হওয়া দেহগুলোর ছবি তুলেছেন এবং তিনি জানিয়েছেন দেহগুলির অধিকাংশের বয়স ১০ বছরের কম।
ঘ.মিয়ানমারে দাঙ্গার কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক কারণ ও ‘৯৬৯’ আন্দোলনের প্রভাবকে দায়ী করেন একদল বুদ্ধিজীবী। এছাড়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের নেকনজরে দেখাও একটি বিশেষ কারণ। আগেই উল্লেখ করেছি রোহিঙ্গারা ইসলাম ধর্মাবলম্বী। দেশটির জনসংখ্যার মোট পাঁচ শতাংশ মুসলিম, কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাদের পড়াশুনার সুযোগ দেয় না। তাই অধিকাংশ রোহিঙ্গারা মৌলিক ইসলামী শিক্ষাকেই একমাত্র শিক্ষার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গা গ্রামে মসজিদ ও মাদ্রাসা রয়েছে, সেখানে শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই তারা গ্রহণ করে থাকে। আধুনিক শিক্ষা তাদের স্পর্শই করে নি। এটাকেও দাঙ্গার একটা অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়।
অন্যদিকে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স দাবি করেছে, দাঙ্গার কারণ যতটা না ধর্মীয় তার চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক। এশিয়ার অন্যতম দরিদ্র দেশটির কেন্দ্রস্থলে মিকতিলা শহরটিতে অবস্থানকারী বৌদ্ধদের চেয়ে মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল। মিকতিলায় মুসলিমদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। মুসলামনদের হাতে আবাসন, ইলেকট্রনিক পণ্য, কাপড়, রে¯েত্মারাঁ, মটরসাইকেলের ডিলারশিপ প্রভৃতির ব্যবসা। বৌদ্ধদের চেয়ে বহুগুণ আয় করে মুসলিমরা। মুসলিমদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৌদ্ধরা কাজ করে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের অধিকাংশ বিক্রেতাও বৌদ্ধরা।
দেশটির সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠী হয়েও এখানে তারা পিঁছিয়ে পড়া, বিষয়টি বৌদ্ধদের কাছে দৃষ্টিকটু। চাইছিল এলাকার অগ্রণী জনগোষ্ঠীতে পরিণত হতে, খুঁজছিল পথ। আর এর অন্যতম রা¯ত্মা হিসেবে দাঙ্গার রা¯ত্মা খুঁজছিল একদল বৌদ্ধ। তাদের সেই পথকে প্রশ¯ত্ম করে দেন মিকতিলার নিউ উইন্ট সেইন এলাকার এক রোহিঙ্গা স্বর্ণ ব্যবসায়ী। দোকানে স্বর্ণ কিনতে আসা এক বৌদ্ধ দম্পতির সঙ্গে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতিতে পৌঁছে যায়। মুসলিম দোকানদার যুবকটি বৌদ্ধ পুরুষটির গালে চর মারে। কোনো বৌদ্ধকে প্রহার মানে বারুদের গুদামে আগুন দেয়ার মতো। শুরু হয় দাঙ্গা। ওই দাঙ্গায় এক বৌদ্ধ ভিক্ষু মারা গেলেও হাজার হাজার মুসলিমকে গৃহহীন হতে হয়েছে। পুরো এলাকাটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
অর্থনৈতিক রূপে পিঁছিয়ে পড়া ছাড়া ‘৯৬৯’ সংখ্যাটি দাঙ্গায় মদত জুগিয়েছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৬৯ সংখ্যাটি বৌদ্ধ ধর্মের মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রথম ৯ দিয়ে বোঝানো হয় বৌদ্ধদের বিশেষ ৯টি ক্ষমতা, ৬ দিয়ে বুদ্ধের ৬টি শিক্ষা এবং শেষ ৯ দিয়ে বোঝানো হয় সংঘ বা বৌদ্ধ মতবাদের ৯টি বিশেষ প্রতীক। আন্দোলনকারীদের মূল লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে বৌদ্ধ আধিপত্য বজায় রাখা। তারা মনে করছেন, মুসলমান পরজীবীর মতো টিঁকে থেকেও বৌদ্ধদের আধিপত্য নস্যাৎ করছে
ঙ.
মিয়ানমারের বার্মিজদের বিশ্বাস দাঙ্গার জন্য এমন এক প্রতিষ্ঠান দায়ী যেটা চোর-বাটপারে পূর্ণ, কিন্তু বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা তারা মানতে নারাজ। মিকতিলার দাঙ্গা দেখা এক ব্যক্তির বক্তব্য, দাঙ্গায় অংশ নেয়া ভিক্ষুরা এসেছিলেন আশেপাশের সুপরিচিত মঠগুলো থেকে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালেই থেকেও অনেকে এসেছিলেন, তাদের অন্যতম উইরাখু। নয় বছর জেলে থাকার পর মুক্তিপান উইরাখু। সামরিক শাসনের অবসানের পর যে কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয় তাদের অন্যতম তিনি। ২০০৩ সালে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গায় তার কারাদ- হয়েছিল। উইরাকু মান্দালেইয়ের বিরাট মেসোইয়েন মঠে ৬০ জন ভিক্ষু ও আড়াই হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে অবস্থান করেছিলেন। এ মঠেই বসে তিনি ‘৯৬৯’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য মুসলমানদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক অবস্থানকে দমন করা। এই ‘৯৬৯’ সংখ্যাটি এখন মুসলান-বিরোধী জাতীয়তাবাদী ব্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
চ.
মুসলমান-বিরোধী দাঙ্গায় বাস্তুহারা এক ক্ষুধার্ত মহিলার কাহিনি শোনাচ্ছি আপনাদের। নুরু ৯ মাসের গর্ভবতী। এই অবস্থাতেই মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইন এলাকা ছেড়ে অন্যদের সঙ্গে জীর্ণ নৌকোয় চড়ে তাকেও সমুদ্রে ভাসতে হয়। গšত্মব্য অজানা। ৬ দিনের মাথায় সাগরেই সšত্মান প্রসব করেন। গত বছরের জুন মাসে রাখাইন বৌদ্ধ ও মুসলিম রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর নুরু মতোই ১০ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নারী ও শিশুকে গৃহছাড়া হযে সাগরে ভাসতে হয়। তাদের সহায়-সম্বল লুট হয়ে গেছে, বাড়ি-ঘর পুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যারা প্রাণ নিয়ে পালাতে পেরেছেন তারা জীর্ণ নৌকোয় করে সাগরের অথৈ জলে নেমে পড়েছেন অজানার গšত্মব্যে। নৌকা ডুবে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ কেউ ধুঁকতে ধুঁকতে শুধু প্রাণটুকু নিয়ে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন। তারা সেখানে হয় অবৈধ অভিবাসী হিসেবে আটক হয়েছেন, না হয় থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী তাদের মালয়েশিয়ার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফের অথৈ সাগরে। ২৪ বছর বয়সী নুরু তার এক মাসের ছেলেকে কোলে নিয়ে ফের সাগরে নেমে পড়েন। বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার পর মাথা গুঁজার ঠাই ছিল না, ছিল না হাতে কোনো কাজ। ঘোর বিপদ জেনেও জীর্ণ নৌকোয় করে সমুদ্রপথে পা বাড়ান। সাগরে কয়েক দিনের মধ্যে তাদের খাদ্য ও পানীয় শেষ হয়ে যায়।
নুরুরা বাধ্য হয়ে সাগরের পানি পান করেন এবং ডায়রিয়ায় আক্রাšত্ম হন। শেষ পর্যšত্ম দুই সপ্তাহ পর তাদের জীর্ণ নৌকাটি রাখাইন থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ডে আন্দামান উপকূলে পৌঁছায়। তবে এখানেই নুরুদের ভাগ্যের পরীক্ষার অšত্ম নয়। সেখানে পৌঁছার পর থাইল্যান্ডের নিরাপত্তাকর্মীরা নৌকার পুরুষ সদস্যদের বিচ্ছিন্ন করে আটক কেন্দ্রে পাঠান। আর নারী-শিশুদের অন্য একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়। নৌকায় এভাবে বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছানো প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গা আটক হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ জনের বেশি নারী ও শিশু।
অনেক শিশু রয়েছে যারা বাবা-মা বা অন্য কোনো আত্মীয়-স্বজন ছাড়াই এই বিপজ্জনক ভ্রমণে বের হয়। তাদের একজন ১২ বছরের আবদুল আজিম (ছদ্মনাম)। সে জানায়, তার বাবা প্রতিবন্ধী। দাঙ্গায় মা মারা যান। আগুনে বাড়ি-ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে, এখন একমাত্র ভরসা মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী তার এক চাচা। ওর কাছে পৌঁছতে হবে তাকে। চাচাকে খুঁজে বের করতে না পারলে তার ভবিষ্যত কী হবে সে নিজেও জানে না।
ছ.মানবতার (?) প্রতীক, মানবাধিকারকর্মী শাšিত্মতে নোবেলজয়ী মিয়ানমারের বর্তমান বিরোধী নেত্রী অং সান সু চি তার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে পারেন নি। দেশে মুসলমানদের ওপর হামলার নিন্দা জানাতে অস্বীকার করায় বিশ্বে মানবাধিকারকর্মী মহলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মধ্যে মিয়ানমারের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ৪৩ জন মুসলমান নিহত হওয়ার ঘটনার একমাস পর মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতি জানান, কিন্তু মুসলমানদের ওপর হামলার ঘটনায় সুস্পষ্টভাবে কোনো নিন্দা জানান নি।১৯৯১ সালে শাšিত্মতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি। বছরের পর বছর গৃহবন্দি থেকে নানা দুঃখকষ্ট সহ্য করেছেন। জীবনের অধিকাংশ সময় প্রাক্তন সামরিক জাšত্মা শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি জাপান সফরকালে সু চি কি বলেন, ভাবলে কষ্ট পাবেন। তারা (মুসলমান) আমাদের দেশকে মনেপ্রাণে ধারণ করে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার এ ধরনের মšত্মব্যে খুশি হতে পারে নি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফিল রবার্টসন বলেন, আমি খুশি যে, সহিংসতার শিকার মানুষগুলোর দুরাবস্থার বিষয়টি কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি স্বীকার করেছেন। কিন্তু শুধু দুঃখ প্রকাশ করেই তিনি দায় এড়াতে পারেন না। তার আরো অনেক কিছু করার আছে।ফিল রবার্টসন বলেন, সহিংসতার ঘটনার ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সু চি তো একজন সাধারণ বিরোধী দল নেত্রী নন। দিনের পর দিন নিজের ভেতরে যে উন্নত নৈতিকতাবোধ গড়ে তুলেছেন, সেগুলো ঘটানোর প্রয়োজন ছিল। জাতিসংঘের বিবেচনায় মিয়ানমারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সর্বাধিক নির্যাতিত প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্যে বাস করে। লাগাতার সহিংসতায় উদ্বাস্তু হয়ে পড়া মিয়ানমারের কয়েক হাজার মানুষ এখনো আশ্রয়হীন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার কারণ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বকারী দল ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ফর ডেভেলপমেন্টের আবু তাহাই বলেন, মিয়ানমারের স্বাধীনতার নায়ক অং সানের কন্যা হিসেবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার ব্যাপারে সু চি’র একটা দায়িত্ববোধ আছে।
অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নিকোলাস ফেরি বলেন, আগামী ২০১৫ সালে মিয়ানমারে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে জিততে চান সু চি। এ অবস্থায় তিনি রোহিঙ্গাসহ অন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক রাখছেন বলে কোনোভাবে প্রতীয়মান হলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকা তার সমর্থকরা চটতে পারেন।
রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন ব্যাঙ্কক ভিত্তিক ‘দ্য আরাকা প্রজেক্ট’র পরিচালক ক্রিস লিউয়া বলেন, নেতৃত্বের বড় পরীক্ষায় সু চি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি (সু চি) আইনের শাসন নিয়ে অনেক কথা বলেন। কিন্তু এটাই কি যথেষ্ট?
মানবতার ধ্বজাধারী, নোবেলজয়ী সু চি’র কি তাহলে এটাই কি মানবতা? শেষ পর্যšত্ম মানবতা দোহাইধারীর নিকটও ক্ষমতার হাতছানি বড় হয়ে উঠলো?
তথ্যসূত্র : যুগশঙ্খ, এএফপি, রয়টার্স, প্রথম আলো
স্থানীয় সময় : ১৯২৯ ঘণ্টা, ০৮ জুন ২০১৩
No comments:
Post a Comment