Saturday, October 12, 2013

রধানমন্ত্রীর মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা আ’লীগের ক্যাডাররাই হত্যা ও রগ কাটার অপকর্মে অভিজ্ঞ, জামায়াত নয় -রফিকুল ইসলাম খান

গত ৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে হাত কাটা, রগ কাটা, পা কাটা মানুষ হত্যার যে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন তার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের ওপর ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হামলা ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গতকাল শুক্রবার বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে হাত কাটা, রগ কাটা, পা কাটা মানুষ হত্যার যে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন তার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ক্যাডারদের হামলা ও ‘দর্শনার পূজাম-বে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা হামলার চেষ্টা করেছে’ মর্মে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। তার বক্তব্যের জবাবে আমি স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই যে, জামায়াতে ইসলামী কখনো মানুষের হাত ও পা কিংবা রগ কাটে না এবং মানুষ হত্যা করে না। ঐসব অপকর্মে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররাই অভিজ্ঞ।
ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকার গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের প্রায় ২৫০ জন ও ৫ মে রাতে এবং ৬ মে সকালে বহু আলেমকে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি দিয়ে গুলী করে হত্যা করেছে। অনেককে গ্রেফতার করে তাদের গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলী চালিয়েছে, চোখ তুলে দিয়েছে, অনেকের হাত-পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে দিয়েছে। যে সরকার দেশের সংবিধান ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে দেশে গণহত্যা চালায় এবং ছাত্র যুবকদের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়, চোখ উপড়ে ফেলে মানুষকে পঙ্গু করে দেয় সেই স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর মুখে বিরোধী দলের সমালোচনা করা ও গণতন্ত্রের ফাঁকা বুলি মানায় না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘জামায়াত ক্ষমতায় এসে দেশে ভয়াবহ সংঘাত সৃষ্টি করতে চায় এবং দেশে আবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়’ মর্মে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সর্বৈব মিথ্যা। এ সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য হলো, প্রধানমন্ত্রী ১৮ দলীয় জোটসহ বিরোধী দলগুলোকে বাইরে রেখে একদলীয় প্রহসনের পাতানো নির্বাচন করে দেশকে সংঘাত-সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিয়ে গণহত্যা করে দেশকে রক্তাক্ত করার ষড়যন্ত্র করছেন। বর্তমান সরকারই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। যে কারণে দেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছে। জনসমর্থন হারিয়ে সরকার এখন মানুষ খুন করে গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকার চক্রান্ত করছে। দেশের জনগণ সরকারের এ চক্রান্ত প্রতিহত করবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ক্ষমতার মোহে অন্ধ সরকার এতটাই বেশামাল হয়ে পড়েছে যে, সরকারের নির্যাতন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকগণও রেহাই পাচ্ছেন না। গত ৯ অক্টোবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর সরকার ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ক্যাডারদের লেলিয়ে দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ৫ জন শিক্ষককে আহত করেছে। ছাত্র নামক দুর্বৃত্তদের দিয়ে শিক্ষকগণের ওপর হামলা চালানোর চাইতে ন্যক্কারজনক ঘটনা আর কি হতে পারে? তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানান।
ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারের পাশাপাশি সরকারের মদদপুষ্ট ও ইসলামবিদ্বেষী কিছু সংবাদপত্রও জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে। গতকাল প্রকাশিত দি ডেইলি স্টার, জনকণ্ঠ ও প্রথম আলো পত্রিকায় ‘চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায় গত ১০ অক্টোবর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা হিন্দুদের পূজাম-বে হামলা চালানোর চেষ্টা চালায়’ মর্মে যে ভিত্তিহীন মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ছাত্রশিবিরের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করে ছাত্রশিবিরের নেতা মোঃ রফিকুল ইসলামকে অন্যায়ভাবে গুলী করে হত্যাকারী পুলিশকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই হিন্দুদের পূজাম-বে ছাত্রশিবির কর্মীদের হামলার চেষ্টা চালানোর মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে সেখানে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এভাবে অপপ্রচার চালিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়া যাবে না। অপপ্রচার বন্ধ করে ছাত্রশিবিরের নেতা মোঃ রফিকুল ইসলামের হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও একদলীয় প্রহসনের পাতানো নির্বাচনের ষড়যন্ত্র বন্ধ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল করে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মী ও আলেমদের মুক্তি দিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

No comments:

Post a Comment