Saturday, October 12, 2013

হুমকির মুখে সুন্দরবন

মোহাম্মদ আব্দুর রহীম : অবশেষে ভারত আমাদের ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনকে ধ্বংসের পাঁয়তারায় মেতে উঠেছে। ভারত চায় বাংলাদেশের অথনৈতিক সম্পদ ধ্বংস করে দিয়ে এ দেশটাকে তাদের করদরাজ্যে পরিণত করতে। বাঘ আমাদের অনন্য প্রতীক। পৃথিবীর বিস্ময় এই বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাসস্থল আমাদের সুন্দরবন। এই বন প্রাণ-প্রকৃতির এক অনন্য আধার। হাজার প্রজাতির জীব বৈচিত্র্যের সম্মেলনে গড়ে ওঠা সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। পৃথিবী জুড়ে প্রকৃতির সাথে মানুষের সহাবস্থানের নিত্য নতুন উপায় যখন উদ্ভাবিত হচ্ছে ঠিক তখনই সুন্দরবনের অস্তিত্ব নিশ্চিত হুমকিতে ফেলে ভারতের স্বার্থে বাংলাদেশ করতে যাচ্ছে ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিশাল রামপাল প্রকল্প।
পৃথিবীতে প্রচলিত জ্বালানিগুলোর মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে কয়লা। একশ বছর ধরে চলে আসা কয়লা ব্যবহারের ক্রমাগত দূষণে পৃথিবী জুড়ে ঝড়-জলোচ্ছাস-খরা, সুনামি-ক্যাট্রিনা-সিডর-আইলা এখন নিত্যসঙ্গী। বাংলাদেশে সিডর-আইলা’র রেখে যাওয়া ক্ষত এখনও আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি। এই সিডর-আইলা’র ক্ষতি নিশ্চিতভাবেই কল্পনার সীমাকেও হার মানাত যদি না সুন্দরবন বুক চিতিয়ে প্রাকৃতিক উন্মত্ততার বাধা হয়ে না দাঁড়াত। দক্ষিণাঞ্চলীয় এই ‘সুন্দরবনী’য় বাধা না থাকলে ধ্বংসলীলা চলত বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্ত হতে উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত। এই সুন্দরবন শুধু আমাদের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচই নয়। এটি ৬ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। অথচ সুন্দরবনের এতসব উপযোগিতা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নিত্য পরিবেশ দূষণে সুন্দরবনের ক্রমাগত ক্ষতির কোন প্রতিকার না করে, আমাদের চোখে উন্নয়নের ঠুলি পরিয়ে সুন্দরবন থেকে মাত্র নয় কিলোমিটার দূরে রামপালে হতে যাচ্ছে বিশালাকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
ইতোমধ্যেই রামপাল এলাকার প্রায় ৪০০০ পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে ১৮৩৪ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কোম্পানী গঠন আর জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করে বেআইনীভাবে লোক দেখানো পরিবেশগত সমীক্ষা রিপোর্ট (ইআইএ) প্রকাশ করা হয় এ বছরের শুরুর দিকে। এই ইআইএ রিপোর্টে সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে যেনতেন ভাবে প্রকল্পটি করে ফেলার পক্ষে ওকালতি করার চেষ্টা প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে।
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারত হয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক অংশীদার। চুক্তিনামা অনুসারে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ বিনিয়োগ হবে ৩০ শতাংশ। বাকি ৭০ শতাংশ ভারতেরই কোন ব্যাংক হতে বাংলাদেশ উচ্চসুদে ঋণ করার এ প্রকল্পে ভারতীয় সব কোম্পানী মূলধনী যন্ত্রপাতির ব্যবসা করবে। ভারত এ প্রকল্প ব্যবসায় কর অবকাশ সুবিধাও পাবে। আবার উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ধার্য করা হারেই বাংলাদেশকে কিনতে হবে। অর্থাৎ মাত্র ১৫ শতাংশ বিনিয়োগে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশের মাটিতে ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে ক্ষয়ক্ষতির সকল দায়ভার বহন করতে হবে বাংলাদেশকেই। অথচ চুক্তি অনুসারে এ ব্যবসার মুনাফা উভয়ের মাঝে সমান দুই ভাগে ভাগ হবে।
সুন্দরবন থেকে প্রকল্প স্থানের দূরত্ব বাস্তবে মাত্র ৯ কিলোমিটার হলেও সরকারিভাবে এই দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার বলে প্রচার করা হচ্ছে। যদিও ভারতেরই ইআইএ গাইডলাইন অনুসারে জীব-বৈচিত্র্যের গুরুত্ব সম্পন্ন কোন এলাকার আশেপাশে ২৫ কিলোমিটার এর মধ্যে কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ যে ভারত নিজের দেশের আইন অনুসারে প্রাণ-পরিবেশ ধ্বংসকারী এমন প্রকল্পের কথা চিন্তাও করতে পারত না- সে ভারতই বাংলাদেশকে চরম সংকটে ফেলে ব্যবসায়িক সহযোগী সেজে চলে এসেছে রামপাল প্রকল্পের লাভের গুড় খেতে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয় প্রায় ৩০ বছর আগে। সেখানে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্রমাগত দূষণে ছাইয়ের আস্তরণে ঢাকা পড়ে আর এসিড বৃষ্টির প্রকটতায় ৪৮ কিলোমিটার জুড়ে হাজার হাজার ওক, পেকান, এলম গাছ ইতোমধ্যেই মরে গেছে। এই যদি হয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণে কৃত্রিম বাগানের গাছ গাছালির করুণ অবস্থা-তবে রামপাল প্রকল্পের দূষণে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে থাকা নিবিড় সুন্দরবন যে পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই হারিয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞগণ আশংকা প্রকাশ করছেন, তা মোটেই অত্যুক্তি নয়।
যে কোন প্রকল্পে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূষণ রোধ করার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি কথার কথাই থেকে যায়। কেননা মুনাফার বাজারে প্রযুক্তি ব্যবহারের বাড়তি ব্যয় ধোপে টেকে না, আর দূষণ নিরোধক যন্ত্রপাতির আয়োজনে উৎপাদন শেষ পর্যন্ত সুলভ হয় না। তাই রামপালের ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে প্রতিদিন ছড়িয়ে পড়া ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড, ৮৫ টন নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, ২ হাজার ৬০০ টন ছাই যে সুন্দরবনের নিশ্চিত মৃত্যু ডেকে নিয়ে আসবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
যদি অতি মাত্রায় আশাবাদী হয়ে ধরেও নেই যে, এ প্রকল্পে অত্যন্ত ব্যয়বহুল দূষণ নিরোধক ব্যবস্থা নেয়া হবে, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি রামপাল প্রকল্প দিয়েই আমাদের দেশে শুরু হবে কিন্তু তারপরও এ কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় ৪৭ লক্ষ টন কয়লা তো সুন্দরবনের গভীরতম অংশের মধ্য দিয়েই পরিবহন করা হবে। লক্ষ টনী বাল্ক ক্যারিয়ার আর হাজার টনী লাইটারেজ জাহাজের সারা বছরব্যাপী আনাগোনা, তীব্র শব্দ, জাহাজ হতে চুইয়ে পড়া তেল, কয়লার ভাংগা টুকরা, জাহাজ চলাচলের প্রচ- ঢেউ যে সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমে ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে নিয়ে আসবে এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।
উন্নয়নের নামে সুন্দরবন হত্যার ধ্বংসাত্মক এ আয়োজনের প্রথম শিকার হয়েছেন সাপমারী কাটাখালী,  কৈগরদাসকাটি, কাপাসডাংগা, বাশেরহুলা মৌজাসহ রামপালের ৪ হাজার পরিবার। জোরপূর্বক তাদেরকে ভিটা মাটি ছাড়া করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবে কেড়ে নেয়া হয়েছে গোয়ালের গরু আর জমির ধান। এই ১৮৩৪ একর জায়গা জুড়ে বছর প্রতি যে ১৩০০ টন ধান আর ৬০০ মেট্রিক টন মাছের উৎপাদন ছিল-তা ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বনাশা এই প্রকল্পে হাজার জীবনের সাজানো সংসার নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তারা উদ্বাস্তু। তাদের কেউ কেউ দিনমজুরি করে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে আবার কেউবা শহরমুখী হয়ে বস্তির জীবন বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
রামপাল প্রকল্প যে সুন্দরবনের নিশ্চিত ধ্বংস নিয়ে আসছে এ ব্যাপারে সচেতন বিশেষজ্ঞ মহল শতভাগ নিশ্চিত। বিভিন্ন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, সভা-সেমিনার’এ তা প্রতিনিয়ত তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু শাসক শ্রেণীর কুম্ভকর্ণের ঘুম যেন ভাংছেই না। সময়ে সময়ে তাদের কাছে থেকে আমরা শুধু পাচ্ছি সুন্দরবন রক্ষার ‘গায়েবী’ আশ্বাস। অথচ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের প্রারম্ভিক কাজ শুরু হয়ে গেছে পুরোদমে।
রামপাল প্রকল্প নিয়ে শাসকগোষ্টী সুন্দরবনকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেষ বিকল্প হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন। ভাবটা এমন যে, দেশের উন্নয়নে ‘সুন্দরবনীয়’ বিদ্যুৎই লাগবে। অথচ আমরা জানি আধুনিককালে সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের হাজারটা উপায় আছে। কিন্তু হাজার বছরের বিবর্তনে গড়ে ওঠা আমাদের সুন্দরবন পৃথিবীতে একটিই। রামপাল প্রকল্প সেই সুন্দরবন ধ্বংসের নিশ্চিত আয়োজন সম্পন্ন করছে। ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের কাড্ডালোর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে পিচাভারম নামের ছোট্ট ম্যানগ্রোভ বনটির দূরত্ব আট কিলোমিটার। ভারতের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন-সংক্রান্ত আইন ১৯৮৭ অনুসারে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৫ কিলোমিটার সীমার মধ্যে কোনো বনভূমি থাকা চলবে না। ফলে তামিলনাড়ুর সরকার ২০১০ সালে কাড্ডালোর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশ ছাড়পত্র দিলেও ২০১২ সালের ২৩ মে সে ছাড়পত্র স্থগিত করে দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। ভারতীয় হিন্দু পত্রিকার রিপোর্টে এ বিষয়ে বলা হয়েছে,
পিচাভারমের আয়তন ১১ বর্গকিলোমিটার, যা ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের মাত্র ৯০০ ভাগের এক ভাগ। ভারতে ছোট্ট একটি ম্যানগ্রোভ বনের পাশে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না-জায়েজ হলেও বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের পাশে বাংলাদেশে ভারতীয় কোম্পানিরই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন জায়েজ!
একইভাবে কর্ণাটক রাজ্যে অবস্থিত রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্কের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে চামালাপুর গ্রামে ১ হাজার মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে পারেনি ভারত ২০০৮ সালে। রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্কের বিস্তৃতি ৬৪৩ বর্গকিলোমিটারজুড়ে, যা সুন্দরবনের আয়তনের ১৬ ভাগের এক ভাগ। যে ভারত তার নিজ দেশে সুন্দরবনের ১৬ ভাগের এক ভাগ আয়তনের রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক এবং ৯০০ ভাগের এক ভাগ আয়তনের পিচাভারম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ২৫ কিলোমিটার সীমার মধ্যে তাপভিত্তিক কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেনি, সেই ভারত বাংলাদেশে সুন্দরবনের মতো একটি বিশ্ব ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্যের অফুরন্ত আধার, রামসার সাইট ও ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বলে ঘোষিত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মাত্র ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিশাল তাপভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে! ভারতের সীমানার ভেতরের বনাঞ্চল সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত সুন্দরবনের অংশের যেন কোনো গুরুত্ব নেই। বাংলাদেশের সুন্দরবন একটি এতিম বনাঞ্চল, যার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই!
অথচ শুধু গোলপাতা, কাঠ, মোম, মধু, মাছ, সারি সারি গাছ আর নদ-নদী-খালের সজীব আধারই নয়, সুন্দরবন যেন গোটা বাংলাদেশকেই লালন করছে, আগলে রাখছে। একদিকে বনের গাঢ় সবুজের সমারোহ সাগরের ওপর থেকে মেঘ টেনে আনে স্থলভাগে এবং শিকড়ের জাল পেতে নদীবাহিত পলি ধরে রাখে, অন্যদিকে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বুক পেতে রক্ষা করে গোটা উপকূল। সেই সুন্দরবন, সেই সজীব প্রাণের স্পন্দনে ভরা প্রিয় বাদাবন নিজেই এবার বিপদে পড়েছে। কঠিন বিপদ। গাছপালা-পশুপাখি-মানুষসহ যে জগতটাকে সে এত দিন আগলে রেখেছে, সেই গোটা জগতের অস্তিত্বই আজ হুমকির মুখোমুখি। এমনিতেই প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট নানা দুর্বিপাকে সুন্দরবনের অস্তিত্ব বিপন্ন, তার ওপর এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যুক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের ওই বিশাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প। গত এপ্রিলে ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসির সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তিও হয়ে গেছে। এর আগে স্থানীয় জনগণের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও এমনকি পরিবেশ সমীক্ষা ছাড়াই ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের আপত্তি উপেক্ষা করে বিতর্কিত পরিবেশ সমীক্ষারও অনুমোদন হয়ে গেছে। সরকার জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরি, রাষ্ট্রের পেশি শক্তি প্রদর্শন, দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত, স্থানীয় জনগণ এমনকি সরকারের বিভিন্ন বিভাগ যেমন বন বিভাগ, নৌ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ইত্যাদির বিরোধিতা অগ্রাহ্য করে ভারতীয় কোম্পানির মুনাফার স্বার্থে সামরিক বাহিনীর সাবসিডিয়ারি বাংলাদেশ ডিজেল পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেডকে দিয়ে প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রামপালে প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলে সুন্দরবন যেসব বিপর্যয়ের শিকার হবে তার কয়েকটি নমুনা :
১. কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই-অক্সাইড ও ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে। ফলে পরিবেশ আইনে বেঁধে দেয়া পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকাসীমার (প্রতি ঘনমিটারে ৩০ মাইক্রোগ্রাম) তুলনায় এসব বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা অনেক বেশি হবে (প্রতি ঘনমিটারে ৫৩ মাইক্রোগ্রামের বেশি)। ফলে এসিড বৃষ্টি, শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতিসহ গাছপালা-জীবজন্তুর জীবন বিপন্ন হবে। অথচ জালিয়াতি করে সুন্দরবনকে পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকার বদলে ‘আবাসিক ও গ্রাম্য এলাকা’ হিসেবে দেখিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ নিরাপদ মাত্রার মধ্যেই থাকবে বলে প্রতারণা করা হচ্ছে।
সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে যেমন ১৪ কিলোমিটার দূরত্বের কথা বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চলছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফায়েত্তি কাউন্টিতে ১৯৭৯-৮০ সালে ১ হাজার ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সময়ও স্থানীয় মানুষকে এভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। এমনকি কিছুদিন পরে এর ক্ষমতা বাড়িয়ে ১ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়। ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে বোঝা না গেলেও ৬৬ থেকে ১৩০ ফুট উঁচু বিশালাকৃতির পেকান গাছগুলো (এক ধরনের শক্ত বাদাম, কাজু বাদামের মতো) যখন একে একে মরতে শুরু করল, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ১৯৮০ থেকে ২০১০ সালের হিসাবে ফায়েত্তি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত গ্যাস বিশেষত সালফার ডাই-অক্সাইডের বিষক্রিয়ায় পেকান, এলম, ওকসহ বিভিন্ন জাতের গাছ আক্রান্ত হয়েছে, বহু পেকান বাগান ধ্বংস হয়েছে, অন্তত ১৫ হাজার বিশালাকৃতির পেকান গাছ মরে গেছে এবং এই ক্ষতিকর প্রভাব কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এমনকি ৪৮ কিলোমিটার দূরেও পৌঁছে গেছে।
ফায়েত্তি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বছরে গড়ে ৩০ হাজার টন সালফার ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের ফলে সালফার ও এসিড দূষণে হাইওয়ে ২১-এর ৪৮ কিলোমিটারজুড়ে গাছপালার এই অবস্থা যদি হতে পারে, তাহলে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরকারি হিসেবেই দৈনিক ১৪২ টন হারে বছরে প্রায় ৫২ হাজার টন (ফ্লু গ্যাস ডিসালফারাইজার বা এফজিডি ব্যবহার না করার কারণে দূষণ অপেক্ষাকৃত বেশি) সালফার ডাই-অক্সাইড নিঃসৃত হলে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুন্দরবনের কী অবস্থা হবে তা ভেবে আতঙ্কিত হতে হয়।
২. সাড়ে চার বছর ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকালে পণ্য ও যন্ত্রপাতি সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নদীপথে পরিবহনের সময় বাড়তি নৌযান চলাচল, তেল নিঃসরণ, শব্দদূষণ, আলো, বর্জ্য নিঃসরণ, ড্রেজিং ইত্যাদির মাধ্যমে সুন্দরবনের ইকোসিস্টেম বিশেষ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, ডলফিন, ম্যানগ্রোভ বন ইত্যাদির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।
৩. কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরে ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা পুড়িয়ে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন ফ্লাই আশ ও ২ লাখ টন বটম আশ উৎপাদিত হবে। এ ফ্লাই আশ, বটম আশ, তরল ঘনীভূত ছাই বা স্লারি ইত্যাদি ব্যাপক মাত্রায় পরিবেশ দূষণ করে। কারণ এতে বিভিন্ন ভারী ধাতু যেমন আর্সেনিক, পারদ, সিসা, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, ব্যারিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়াম, রেডিয়াম মিশে থাকে। এ দূষণকারী ছাই দিয়ে ১ হাজার ৪১৪ একর জমি ৬ মিটার উঁচু করা হবে। ফলে এ ছাই উড়ে, ছাই ধোয়া পানি চুইয়ে আশপাশের নদী-খাল ও ভূগর্ভস্থ জলাধার দূষিত হবে।
৪. কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইন, জেনারেটর, কমপ্রেসার, পাম্প, কুলিং টাওয়ার, কয়লা ওঠানামা, পরিবহন ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও যানবাহন থেকে ভয়াবহ শব্দদূষণ হয়। বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করে সুন্দরবনকে রক্ষা করা হবে। কিন্তু সবুজ বেষ্টনী বেড়ে উঠতে তো সময় লাগবে। ওই কয় বছর শব্দদূষণ প্রতিহত করা হবে কীভাবে কিংবা সবুজ বেষ্টনীর বাইরে যন্ত্রপাতি ও পণ্য পরিবহন, ড্রেজিং ইত্যাদি কাজের সময় যে শব্দদূষণ হবে, তার ক্ষতিকর প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা হবে।
৫. প্ল্যান্ট পরিচালনার জন্য পশুর নদী থেকে ঘণ্টায় ৯ হাজার ১৫০ ঘনমিটার পানি সংগ্রহ করা হবে এবং পরিশোধন করার পর পানি এ নদীতে ঘণ্টায় ৫ হাজার ১৫০ ঘনমিটার হারে নির্গমন করা হবে। পরিশোধনের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর পরও পানিতে নানা রাসায়নিক পদার্থ ও অন্যান্য দূষিত উপাদান থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকেই। তাছাড়া নদী থেকে এ হারে পানি প্রত্যাহার, তারপর বিপুল বেগে পানি আবার নদীতে নির্গমন, নির্গমনকৃত পানির তাপমাত্রা ইত্যাদি এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ, পানির প্লাবতা, পলিবহন ক্ষমতা, মৎস্য ও অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন চক্র ইত্যাদির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবেই; যা নদী-নালা, খাল-বিলের মাধ্যমে গোটা সুন্দরবনের জলজ বাস্তুসংস্থানের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।
৬. কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিমনি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের তাপমাত্রা হবে ১২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চারপাশের পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।
৭. বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানি করা কয়লা সুন্দরবনের মধ্য দিয়েই পরিবহন করা হবে। এজন্য বছরে ৫৯ দিন বড় জাহাজ এবং ২৩৬ দিন লাইটারেজ জাহাজ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লার মতো দূষণকারী কার্গো নিয়ে চলাচল করবে। ফলে কয়লা পরিবহন, ওঠানামা, জাহাজের ঢেউ, নাব্যতা রক্ষার জন্য ড্রেজিং, জাহাজ থেকে নির্গত তরল কঠিন বিষাক্ত বর্জ্য, জাহাজ নিঃসৃত তেল, দিন-রাত জাহাজ চলাচলের শব্দ, সার্চ লাইট ইত্যাদি সুন্দরবনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জীববৈচিত্র্য বিনাশ করবে। এগুলো আমাদের নিজেদের কথা নয়, প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিয়ে তারপর এটি জায়েজ করার জন্য যে পরিবেশ সমীক্ষা করা হয়েছে, তাতে শত জালিয়াতি করেও এ রকম ভয়ঙ্কর ফলাফলকে ঢেকে রাখা যায়নি। বন অধিদফতর থেকে ২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দিয়ে জানানো হয়: ‘কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের তথা সমগ্র সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হবে। বাংলাদেশকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার বাধ্যবাধকতা আন্তর্জাতিকভাবেও আরো দায়িত্বশীল করে। খুলনা অঞ্চল সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় কয়লাভিত্তিক স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বন সংরক্ষক। বিধায় কয়লাভিত্তিক  প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনা করার জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হলো।’
কিন্তু এত কিছুর পরও বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর কোনো ভ্রƒক্ষেপ নেই। স্থানীয় জনগণ, সারা দেশের জনমত, বিশেষজ্ঞ এমনকি রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্রের মতামত পর্যন্ত উপেক্ষা করে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারের এ প্রকল্প বাস্তবায়নে। শুধু রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পই নয়, তিস্তার পানিবণ্টন, তিতাসের বুকে বাঁধ দিয়ে ভারতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি স্থানান্তর, টিপাইমুখ বাঁধ, ট্রানজিট, সীমান্ত হত্যা ইত্যাদি ক্ষেত্রে শাসকশ্রেণীর নতজানু অবস্থান খুব স্পষ্ট। ভারতের সরকারি-বেসরকারি বৃহৎ করপোরেশনের মুনাফা নজরে একদিকে ভারতেরই আদিবাসী, কৃষক ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও প্রাণ-প্রকৃতি বিপন্ন হচ্ছে; অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশের নদী, বনাঞ্চলও সাম্রাজ্যবাদের মুনাফা নজর থেকে মুক্ত নয়। ভারতীয় শাসকদের মুনাফা ও আধিপত্যের সম্প্রসারণে কখনো জুনিয়র পার্টনার, কখনো সাব-কন্ট্রাক্টজীবী কিংবা কমিশনভোগী হিসেবে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর একটি শ্রেণীর এই নতজানু ভূমিকার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠা জরুরি। টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধে যেমন উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম-মণিপুরের জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রামের আন্তঃসংযোগ জরুরি, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশজুড়ে থাকা এ সুন্দরবন ধ্বংসের রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একইভাবে শুধু রামপাল বা বাংলাদেশের জনগণই নয়, ভারতীয় এমনকি সারা দুনিয়ার সংগ্রামী জনগণের পারস্পরিক সংগ্রামের আন্তঃসংযোগ গড়ে তোলা দরকার।

রধানমন্ত্রীর মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা আ’লীগের ক্যাডাররাই হত্যা ও রগ কাটার অপকর্মে অভিজ্ঞ, জামায়াত নয় -রফিকুল ইসলাম খান

গত ৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে হাত কাটা, রগ কাটা, পা কাটা মানুষ হত্যার যে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন তার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের ওপর ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হামলা ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গতকাল শুক্রবার বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে হাত কাটা, রগ কাটা, পা কাটা মানুষ হত্যার যে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন তার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ক্যাডারদের হামলা ও ‘দর্শনার পূজাম-বে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা হামলার চেষ্টা করেছে’ মর্মে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। তার বক্তব্যের জবাবে আমি স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই যে, জামায়াতে ইসলামী কখনো মানুষের হাত ও পা কিংবা রগ কাটে না এবং মানুষ হত্যা করে না। ঐসব অপকর্মে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররাই অভিজ্ঞ।
ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকার গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের প্রায় ২৫০ জন ও ৫ মে রাতে এবং ৬ মে সকালে বহু আলেমকে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি দিয়ে গুলী করে হত্যা করেছে। অনেককে গ্রেফতার করে তাদের গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলী চালিয়েছে, চোখ তুলে দিয়েছে, অনেকের হাত-পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে দিয়েছে। যে সরকার দেশের সংবিধান ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে দেশে গণহত্যা চালায় এবং ছাত্র যুবকদের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়, চোখ উপড়ে ফেলে মানুষকে পঙ্গু করে দেয় সেই স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর মুখে বিরোধী দলের সমালোচনা করা ও গণতন্ত্রের ফাঁকা বুলি মানায় না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘জামায়াত ক্ষমতায় এসে দেশে ভয়াবহ সংঘাত সৃষ্টি করতে চায় এবং দেশে আবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়’ মর্মে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সর্বৈব মিথ্যা। এ সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য হলো, প্রধানমন্ত্রী ১৮ দলীয় জোটসহ বিরোধী দলগুলোকে বাইরে রেখে একদলীয় প্রহসনের পাতানো নির্বাচন করে দেশকে সংঘাত-সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিয়ে গণহত্যা করে দেশকে রক্তাক্ত করার ষড়যন্ত্র করছেন। বর্তমান সরকারই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। যে কারণে দেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছে। জনসমর্থন হারিয়ে সরকার এখন মানুষ খুন করে গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকার চক্রান্ত করছে। দেশের জনগণ সরকারের এ চক্রান্ত প্রতিহত করবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ক্ষমতার মোহে অন্ধ সরকার এতটাই বেশামাল হয়ে পড়েছে যে, সরকারের নির্যাতন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকগণও রেহাই পাচ্ছেন না। গত ৯ অক্টোবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর সরকার ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ক্যাডারদের লেলিয়ে দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ৫ জন শিক্ষককে আহত করেছে। ছাত্র নামক দুর্বৃত্তদের দিয়ে শিক্ষকগণের ওপর হামলা চালানোর চাইতে ন্যক্কারজনক ঘটনা আর কি হতে পারে? তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানান।
ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারের পাশাপাশি সরকারের মদদপুষ্ট ও ইসলামবিদ্বেষী কিছু সংবাদপত্রও জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে। গতকাল প্রকাশিত দি ডেইলি স্টার, জনকণ্ঠ ও প্রথম আলো পত্রিকায় ‘চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায় গত ১০ অক্টোবর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা হিন্দুদের পূজাম-বে হামলা চালানোর চেষ্টা চালায়’ মর্মে যে ভিত্তিহীন মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ছাত্রশিবিরের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করে ছাত্রশিবিরের নেতা মোঃ রফিকুল ইসলামকে অন্যায়ভাবে গুলী করে হত্যাকারী পুলিশকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই হিন্দুদের পূজাম-বে ছাত্রশিবির কর্মীদের হামলার চেষ্টা চালানোর মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে সেখানে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এভাবে অপপ্রচার চালিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়া যাবে না। অপপ্রচার বন্ধ করে ছাত্রশিবিরের নেতা মোঃ রফিকুল ইসলামের হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও একদলীয় প্রহসনের পাতানো নির্বাচনের ষড়যন্ত্র বন্ধ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল করে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মী ও আলেমদের মুক্তি দিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

কেয়ারটেকার সরকার এবং ১৮ দলের র্শীষনেতাদের মুক্তির দাবীতে লক্ষ্মীপুরের দালালবাজারে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ॥



প্রেস বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসাবে  লক্ষ্মীপুর সদর পশ্চিম জামায়াতের উদ্যোগে ঢাকা রায়পুর মহাসড়কের দালাল বাজারে  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত। সদর পশ্চিম জামায়াতের আমীর মমিন উদ্দিন আহমাদ পাটওয়ারীর নেতৃত্বে উক্ত মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন  সেক্রেটারী মমিন উল্যাহ্ পাটওয়ারীর। উপস্থিত ছিলেন থানা  জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাষ্টার মমিনুল হক,কাজী রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসাইন আহমাদ মেলেটরী,আবুল বাশার, ছাত্রশিবির সভাপতি হাফেজ কামরুল হাসান,আবু জাফর ,শরিফ হোসাইন ,মনোয়ার হোসেন রুস্তম, জামায়াত নেতা  আশরাফ বাবুল, আবু বকর সিদ্দিক, মাও. আবদুল কুদ্দুছ , মাস্টার জয়নাল আবেদীন,অধ্যাপক আবদুল মলেক প্রমূখ সহ সহশ্রাদিক নেতা কর্মী। বক্তাগন বলেন, জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, অধ্যাপক গোলাম আজম, মাওলানা একে এম ইউছুপ, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী, আলী আহসান মুজাহিদ ও শিবির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সহ জাতীয় সকল নেতাদের মুক্তি দিয়ে ফ্যাসিবাদী আচরন ত্যাগ করুন। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সকল মহলের প্রত্যাখাত এই বিতর্কিত ট্রাইবুনাল বাতিল সহ এর সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, কেয়ারটেকার সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। তা নাহলে সামনে লাগাতার হরতাল অবরোধের মাধ্যমে এ জালিম সরকারের পতন নিশ্চত করা হবে।

Thursday, July 4, 2013

শপথ নিলেন মিসরের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুর


মিসরের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি আদলি মনসুর।
মিসরীয় সেনাবাহিনী দেশটির প্রথবারের মতো অনুষ্ঠিত অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুৎ করার কয়েক ঘণ্টা পর আদলি নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন।
সাংবিধানিক আদালতে অনুষ্ঠিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয।
সামরিক ডিক্রি অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত মনসুর দায়িত্ব পালন করে যাবেন। তবে নতুন প্রেসিডেন্ট কবে নির্বাচিত হবেন, তার তারিখ এখনো ঠিক করা হয়নি।
তিনি শপথে বলেন, ‘আমি প্রজাতন্ত্র রক্ষার এবং সংবিধান ও আইন এবং দেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখার শপথ গ্রহণ করছি।’
আজ বৃহস্পতিবার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্তব্যে আদলি মনসুর সশস্ত্র বাহিনী ও মিসরীয় জনগণের প্রশংসা করে বলেন, ‘শাসকের উপাসনা’ করার দিন শেষ হয়ে গেছে।
কয়েক দিন ধরে ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে সেনাবাহিনী মুরসিকে অপসারণ করে। তিনি এখন সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মুরসি ‘জনগণের দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।’ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবদেল-ফাত্তাহ আল-সিসি বুধবার রাতে সংবিধান স্থগিত করার কথা ঘোষণা করেন।
মুরসি সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপকে ‘পূর্ণাঙ্গ অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেন।
আদলি মাত্র চার দিন আগে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের প্রধান পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। আর তাকে ওই পদে নিযুক্ত করেছিলেন সদ্য বরখাস্তকৃত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি।
৬৭ বছর বয়স্ক আদলি তিন সন্তানের জনক। তিনি ফ্রান্সের মর্যাদাসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইকোল ন্যাশনাল ডি ল অ্যাডমিনিস্ট্রিশন থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছিলেন। তিনি গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হোসনি মোবারকের আমলে দীর্ঘদিন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

Sunday, June 9, 2013

আগামী কালের হরতালের সমর্থনে লক্ষ্মীপুর সদর পশ্চিম জামায়াতের উদ্যোগে দালাল বাজারে মিছিল ঃ



প্রেস বিজ্ঞপ্তি ঃ জাতীয় নেতাদের মুক্তি, সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম সহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে প্রৃহসনের রায় ও সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে দেশব্যাপী আগামী কালকের সকাল সন্ধা হরতালের সমর্থনে লক্ষ্মীপুর সদর পশ্চিম জামায়াতের উদ্যোগে ঢাকা রায়পুর মহাসড়কের দালাল বাজারে তিন শতাধিক জনতার উপস্থিতিতে বিক্ষোভ মিছিল আনুষ্টিত। সদর পশ্চিম জামায়াতের আমীর মমিন উদ্দিন আহমাদ পাটওয়ারীর নেতৃত্বে  উক্ত মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারী মমিন উল্যাহ্ পাটওয়ারীর , থানা  জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাষ্টার মমিনুল হক, প্রভাষক মাওলানা হুমায়ুন কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসাইন আহমাদ মেলেটরী, মাওলানা আবুল বাশার , দালাল বাজার ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা তোফায়েল আহম্মদ, ছাত্রশিবির সভাপতি হাফেজ কামরুল হাসান, আবু জাফর, জামায়াত নেতা মনির হোসেন মিলন , আলমগীর হোসেন, আশরাফ বাবুল শরিফ হোসাইন ,মনোয়ার হোসেন রুস্তম, জামায়াত নেতা মাও. আবদুল কুদ্দুছ , মাস্টার জয়নাল আবেদীন, আবদুল মতিন, ডা: মাইন উদ্দিন মিন্টু প্রমূখ।

Saturday, June 8, 2013

কোথায় মানবতার দোহাইধারীরা?


এ কে আজাদ : মিয়ানমারের একটি ছোট্ট রাজ্য আরাকান, যার বর্তমান নাম রাখাইন। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম লাগোয়া ওই রাজ্যটি চারটি জেলায় বিভক্ত। প্রধান নগর অকয়ার। রাজ্যটির অধিকাংশ পাহাড়ি এলাকা। রাজ্যটির সমতল এলাকার কিছু কিছু জায়গায় কৃষিক্ষেত হয়ে থাকে। ওই রাখাইন রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য আধিবাসী জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা। এই নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীটি মূলত ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। বর্তমান মিয়ানমারে তাদের জনসংখ্যা প্রায় আট লাখ। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের কোনো দিনও আপন ভাবে নি, আজও ভাবে না। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন কারণে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়, যার ফলে আজ তারা মিয়ানমার ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এই মুহূর্তে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী।খ.দীর্ঘ ৪৯ বছরের সামরিক শাসনের অবসান হতে না হতেই দাঙ্গার সূত্রপাত। ২০১১ সালের মার্চে চার দিনের দাঙ্গায় রাখাইনের মিকতিলা শহরে মোট ৪৩ জন মারা যায়। বাড়ি-ঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে পালায় প্রায় ১৩ হাজার মানুষ। এই ঘটনার পর দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে আরো ১৪টি গ্রামে। দাঙ্গায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের শসস্ত্র আক্রমণ ছিল উল্লেখনীয়। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা মিয়ানমারে সার্বিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। সেখানকার গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ভিক্ষুদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মিকতিলা দাঙ্গায় ভিক্ষুরা যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তাতে তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থান প্রশ্নের মুখোমুখি।

অন্যদিকে ভিক্ষুরা যখন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তখন স্থানীয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উল্টো দাঙ্গাকারীদের মদত জুগিয়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেয়ালে ছিল ‘চাই মুসলমান নিধন’। প্রশাসন এসব দেখেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় নি।

 সরকারের তরফ থেকে দাঙ্গা সামাল দেয়ার জন্য কোনো জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ক্রমশ তা প্রবল আকার ধারণ করে। এতে রাখাইন বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমরা সর্বাধিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। রোহিঙ্গা মুসলিমদের অ¯িত্মত্ব তো আজ সংকটের মুখে। এক বছরেরও অধিক সময় থেকে চলা এই দাঙ্গায় এখন পর্যšত্ম ১৯২ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।  রাখাইনদের অগ্নিসংযোগ, লুটপাটে গৃহছাড়া হয়েছে দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আর এসব কা-কারখানার জন্য অভিযোগের তীর রাখাইনদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধেও। প্রশাসন রাখাইনদের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করছে বলে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আšত্মর্জাতিক মহলের একটি অংশের দৃঢ় বিশ্বাস।
২০১২ সালের মার্চে মিয়ানমারে রাখাইন বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে জাতিগত কোন্দলকে কেন্দ্র করে যে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছিল তার জন্য দায়ী শুধু রাখাইনরা নয়। প্রথমাবস্থায় দুই পক্ষই দায়ী। দাঙ্গা শুরু হয়েছিল এক বৌদ্ধ হত্যার মধ্য দিয়ে। মিকতিলা শহরে এক রাখাইন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে রোহিঙ্গারা হত্যা করলে বৌদ্ধরা ভড়কে উঠে। শুরু হয় রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ। বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হত্যার জন্য প্রশাসন ৪২ জনকে আটক করে। যদিও এরপরও দাঙ্গা থামেনি। বরং তা নতুন নতুন এলাকায় ছেিড়য়ে পড়ে।
গ.২০১২ সালের ২১ মার্চ মিকতিলা শহরের রা¯ত্মা দিয়ে এক রোহিঙ্গা মুসলিম নারী যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুক ওই নারীটির গলায় ছুরি চেপে ধরে। পাশে দাঁড়িয়েছিল একদল পুলিশ। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে পুলিশ এগোলে ভিক্ষুটি চিৎকার করে বলে, ‘এগোলে মেরে ফেলবো’। ততক্ষণে রামদা, তলোয়ারসহ বিভিন্ন মরণাস্ত্র নিয়ে একদল ভিক্ষু মুসলমান নিধনের জন্য এগিয়ে আসে। পুলিশের বুঝতে অসুবিধা হয় নি তারা দাঙ্গাকারী, কিন্তু এরপরও পুলিশ তা শক্ত হাতে দমন করতে পারে নি।ওই দিন ও পরের দিন মিলে মোট ২৫ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে দাঙ্গাকারীরা। হত্যার পর কয়েকটি মৃতদেহ একটি পাহাড়ের ওপর নিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় তো কয়েকটি দা দিয়ে কুপিয়ে খ--বিখ- করে ফেলে দেয়া হয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক ক্যামেরাম্যান পুড়ে অঙ্গার হওয়া দেহগুলোর ছবি তুলেছেন এবং তিনি জানিয়েছেন দেহগুলির অধিকাংশের বয়স ১০ বছরের কম।
ঘ.মিয়ানমারে দাঙ্গার কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক কারণ ও ‘৯৬৯’ আন্দোলনের প্রভাবকে দায়ী করেন একদল বুদ্ধিজীবী। এছাড়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের নেকনজরে দেখাও একটি বিশেষ কারণ। আগেই উল্লেখ করেছি রোহিঙ্গারা ইসলাম ধর্মাবলম্বী। দেশটির জনসংখ্যার মোট পাঁচ শতাংশ মুসলিম, কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাদের পড়াশুনার সুযোগ দেয় না। তাই অধিকাংশ রোহিঙ্গারা মৌলিক ইসলামী শিক্ষাকেই একমাত্র শিক্ষার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গা গ্রামে মসজিদ ও মাদ্রাসা রয়েছে, সেখানে শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই তারা গ্রহণ করে থাকে। আধুনিক শিক্ষা তাদের স্পর্শই করে নি। এটাকেও দাঙ্গার একটা অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়।
অন্যদিকে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স দাবি করেছে, দাঙ্গার কারণ যতটা না ধর্মীয় তার চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক। এশিয়ার অন্যতম দরিদ্র দেশটির কেন্দ্রস্থলে মিকতিলা শহরটিতে অবস্থানকারী বৌদ্ধদের চেয়ে মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল। মিকতিলায় মুসলিমদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। মুসলামনদের হাতে আবাসন, ইলেকট্রনিক পণ্য, কাপড়, রে¯েত্মারাঁ, মটরসাইকেলের ডিলারশিপ প্রভৃতির ব্যবসা। বৌদ্ধদের চেয়ে বহুগুণ আয় করে মুসলিমরা। মুসলিমদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৌদ্ধরা কাজ করে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের অধিকাংশ বিক্রেতাও বৌদ্ধরা।

দেশটির সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠী হয়েও এখানে তারা পিঁছিয়ে পড়া, বিষয়টি বৌদ্ধদের কাছে দৃষ্টিকটু। চাইছিল এলাকার অগ্রণী জনগোষ্ঠীতে পরিণত হতে, খুঁজছিল পথ। আর এর অন্যতম রা¯ত্মা হিসেবে দাঙ্গার রা¯ত্মা খুঁজছিল একদল বৌদ্ধ। তাদের সেই পথকে প্রশ¯ত্ম করে দেন মিকতিলার নিউ উইন্ট সেইন এলাকার এক রোহিঙ্গা স্বর্ণ ব্যবসায়ী। দোকানে স্বর্ণ কিনতে আসা এক বৌদ্ধ দম্পতির সঙ্গে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতিতে পৌঁছে যায়। মুসলিম দোকানদার যুবকটি বৌদ্ধ পুরুষটির গালে চর মারে। কোনো বৌদ্ধকে প্রহার মানে বারুদের গুদামে আগুন দেয়ার মতো। শুরু হয় দাঙ্গা। ওই দাঙ্গায় এক বৌদ্ধ ভিক্ষু মারা গেলেও হাজার হাজার মুসলিমকে গৃহহীন হতে হয়েছে। পুরো এলাকাটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
অর্থনৈতিক রূপে পিঁছিয়ে পড়া ছাড়া ‘৯৬৯’ সংখ্যাটি দাঙ্গায় মদত জুগিয়েছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৬৯ সংখ্যাটি বৌদ্ধ ধর্মের মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রথম ৯ দিয়ে বোঝানো হয় বৌদ্ধদের বিশেষ ৯টি ক্ষমতা, ৬ দিয়ে বুদ্ধের ৬টি শিক্ষা এবং শেষ ৯ দিয়ে বোঝানো হয় সংঘ বা বৌদ্ধ মতবাদের ৯টি বিশেষ প্রতীক। আন্দোলনকারীদের মূল লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে বৌদ্ধ আধিপত্য বজায় রাখা। তারা মনে করছেন, মুসলমান পরজীবীর মতো টিঁকে থেকেও বৌদ্ধদের আধিপত্য নস্যাৎ করছে
ঙ.

মিয়ানমারের বার্মিজদের বিশ্বাস দাঙ্গার জন্য এমন এক প্রতিষ্ঠান দায়ী যেটা চোর-বাটপারে পূর্ণ, কিন্তু বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা তারা মানতে নারাজ। মিকতিলার দাঙ্গা দেখা এক ব্যক্তির বক্তব্য, দাঙ্গায় অংশ নেয়া ভিক্ষুরা এসেছিলেন আশেপাশের সুপরিচিত মঠগুলো থেকে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালেই থেকেও অনেকে এসেছিলেন, তাদের অন্যতম উইরাখু। নয় বছর জেলে থাকার পর মুক্তিপান উইরাখু। সামরিক শাসনের অবসানের পর যে কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয় তাদের অন্যতম তিনি। ২০০৩ সালে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গায় তার কারাদ- হয়েছিল। উইরাকু মান্দালেইয়ের বিরাট মেসোইয়েন মঠে ৬০ জন ভিক্ষু ও আড়াই হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে অবস্থান করেছিলেন। এ মঠেই বসে তিনি ‘৯৬৯’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য মুসলমানদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক অবস্থানকে দমন করা। এই ‘৯৬৯’ সংখ্যাটি এখন মুসলান-বিরোধী জাতীয়তাবাদী ব্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
চ.

মুসলমান-বিরোধী দাঙ্গায় বাস্তুহারা এক ক্ষুধার্ত মহিলার কাহিনি শোনাচ্ছি আপনাদের। নুরু ৯ মাসের গর্ভবতী। এই অবস্থাতেই মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইন এলাকা ছেড়ে অন্যদের সঙ্গে জীর্ণ নৌকোয় চড়ে তাকেও সমুদ্রে ভাসতে হয়। গšত্মব্য অজানা। ৬ দিনের মাথায় সাগরেই সšত্মান প্রসব করেন। গত বছরের জুন মাসে রাখাইন বৌদ্ধ ও মুসলিম রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর নুরু মতোই ১০ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নারী ও শিশুকে গৃহছাড়া হযে সাগরে ভাসতে হয়। তাদের সহায়-সম্বল লুট হয়ে গেছে, বাড়ি-ঘর পুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যারা প্রাণ নিয়ে পালাতে পেরেছেন তারা জীর্ণ নৌকোয় করে সাগরের অথৈ জলে নেমে পড়েছেন অজানার গšত্মব্যে। নৌকা ডুবে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ কেউ ধুঁকতে ধুঁকতে শুধু প্রাণটুকু নিয়ে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন। তারা সেখানে হয় অবৈধ অভিবাসী হিসেবে আটক হয়েছেন, না হয় থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী তাদের মালয়েশিয়ার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফের অথৈ সাগরে। ২৪ বছর বয়সী নুরু তার এক মাসের ছেলেকে কোলে নিয়ে ফের সাগরে নেমে পড়েন। বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার পর মাথা গুঁজার ঠাই ছিল না, ছিল না হাতে কোনো কাজ। ঘোর বিপদ জেনেও জীর্ণ নৌকোয় করে সমুদ্রপথে পা বাড়ান। সাগরে কয়েক দিনের মধ্যে তাদের খাদ্য ও পানীয় শেষ হয়ে যায়।
নুরুরা বাধ্য হয়ে সাগরের পানি পান করেন এবং ডায়রিয়ায় আক্রাšত্ম হন। শেষ পর্যšত্ম দুই সপ্তাহ পর তাদের জীর্ণ নৌকাটি রাখাইন থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ডে আন্দামান উপকূলে পৌঁছায়। তবে এখানেই নুরুদের ভাগ্যের পরীক্ষার অšত্ম নয়। সেখানে পৌঁছার পর থাইল্যান্ডের নিরাপত্তাকর্মীরা নৌকার পুরুষ সদস্যদের বিচ্ছিন্ন করে আটক কেন্দ্রে পাঠান। আর নারী-শিশুদের অন্য একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়। নৌকায় এভাবে বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছানো প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গা আটক হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ জনের বেশি নারী ও শিশু।
অনেক শিশু রয়েছে যারা বাবা-মা বা অন্য কোনো আত্মীয়-স্বজন ছাড়াই এই বিপজ্জনক ভ্রমণে বের হয়। তাদের একজন ১২ বছরের আবদুল আজিম (ছদ্মনাম)। সে জানায়, তার বাবা প্রতিবন্ধী। দাঙ্গায় মা মারা যান। আগুনে বাড়ি-ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে,  এখন একমাত্র ভরসা মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী তার এক চাচা। ওর কাছে পৌঁছতে হবে তাকে। চাচাকে খুঁজে বের করতে না পারলে তার ভবিষ্যত কী হবে সে নিজেও জানে না।
ছ.মানবতার (?) প্রতীক, মানবাধিকারকর্মী শাšিত্মতে নোবেলজয়ী মিয়ানমারের বর্তমান বিরোধী নেত্রী অং সান সু চি তার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে পারেন নি। দেশে মুসলমানদের ওপর হামলার নিন্দা জানাতে অস্বীকার করায় বিশ্বে মানবাধিকারকর্মী মহলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মধ্যে মিয়ানমারের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ৪৩ জন মুসলমান নিহত হওয়ার ঘটনার একমাস পর মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতি জানান, কিন্তু মুসলমানদের ওপর হামলার ঘটনায় সুস্পষ্টভাবে কোনো নিন্দা জানান নি।১৯৯১ সালে শাšিত্মতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি। বছরের পর বছর গৃহবন্দি থেকে নানা দুঃখকষ্ট সহ্য করেছেন। জীবনের অধিকাংশ সময় প্রাক্তন সামরিক জাšত্মা শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি জাপান সফরকালে সু চি কি বলেন, ভাবলে কষ্ট পাবেন। তারা (মুসলমান) আমাদের দেশকে মনেপ্রাণে ধারণ করে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার এ ধরনের মšত্মব্যে খুশি হতে পারে নি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফিল রবার্টসন বলেন, আমি খুশি যে, সহিংসতার শিকার মানুষগুলোর দুরাবস্থার বিষয়টি কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি স্বীকার করেছেন। কিন্তু শুধু দুঃখ প্রকাশ করেই তিনি দায় এড়াতে পারেন না। তার আরো অনেক কিছু করার আছে।ফিল রবার্টসন বলেন, সহিংসতার ঘটনার ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সু চি তো একজন সাধারণ বিরোধী দল নেত্রী নন। দিনের পর দিন নিজের ভেতরে যে উন্নত নৈতিকতাবোধ গড়ে তুলেছেন, সেগুলো ঘটানোর প্রয়োজন ছিল। জাতিসংঘের বিবেচনায় মিয়ানমারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সর্বাধিক নির্যাতিত প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্যে বাস করে। লাগাতার সহিংসতায় উদ্বাস্তু হয়ে পড়া মিয়ানমারের কয়েক হাজার মানুষ এখনো আশ্রয়হীন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার কারণ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বকারী দল ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ফর ডেভেলপমেন্টের আবু তাহাই বলেন, মিয়ানমারের স্বাধীনতার নায়ক অং সানের কন্যা হিসেবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার ব্যাপারে সু চি’র একটা দায়িত্ববোধ আছে।
অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নিকোলাস ফেরি বলেন, আগামী ২০১৫ সালে মিয়ানমারে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে জিততে চান সু চি। এ অবস্থায় তিনি রোহিঙ্গাসহ অন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক রাখছেন বলে কোনোভাবে প্রতীয়মান হলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকা তার সমর্থকরা চটতে পারেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন ব্যাঙ্কক ভিত্তিক ‘দ্য আরাকা প্রজেক্ট’র পরিচালক ক্রিস লিউয়া বলেন, নেতৃত্বের বড় পরীক্ষায় সু চি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি (সু চি) আইনের শাসন নিয়ে অনেক কথা বলেন। কিন্তু এটাই কি যথেষ্ট?
মানবতার ধ্বজাধারী, নোবেলজয়ী সু চি’র কি তাহলে এটাই কি মানবতা? শেষ পর্যšত্ম মানবতা দোহাইধারীর নিকটও ক্ষমতার হাতছানি বড় হয়ে উঠলো?

তথ্যসূত্র : যুগশঙ্খ, এএফপি, রয়টার্স, প্রথম আলো
স্থানীয় সময় : ১৯২৯ ঘণ্টা, ০৮ জুন ২০১৩
জন্ম আমার ঢকা শহরে হলেও আমার বাল্যকাল গ্রামেই কেটেছে। ১৯২২ সালের ৭ নভেম্বর ঢাকা শহরে লক্ষীবাজার এলাকায় 'মিয়া সাহেবের ময়দান' নামে পরিচিত এক ঐতিহ্যবাহী পীর বাড়িতে আমার জন্ম হয়। এটা আমার নানার বাড়ি। আমি আমার পিতামাতার প্রথম সন্তান। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী প্রথম সন্তান মায়ের পিতার বাড়িতে জন্ম নেয়। একারনেই আমার আসল বাড়ি গ্রামে হলেও শহরেই জন্ম হয়। আম্মা প্রতিবছরই এক থেকে দেড়মাস পিতার বাড়িতে বেড়াতে আসতেন। এ সুযোগে বাল্যকালেই গ্রাম ও শহরের সাথে আমার পরিচয় হয়। ক্লাস সিক্স পর্যন্ত আমার লেখাপড়া গ্রামেই হয়।